সম্মানিত হজ্ব যাত্রীদের জন্য নাক কান গলা বিষয়ক পরামর্শ

সম্মানিত হজ্বযাত্রীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও দয়ায় আপনি পবিত্র কাবার মালিকের মেহমান হতে যাচ্ছেন ইনশাআল্লাহ। পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা তথা সৌদি আরবে অবস্থান ও হজ্জের বিধান সমুহ পালনে আপনি বেশ কিছু দিন সৌদি আরবে অবস্থান করবেন। সৌদি আরবের আবহাওয়া গত কারনে সেখানে প্রচুর গরম। তাই পরিবর্তিত পরিবেশে আপনি কিছু নাক কান গলার সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন..
যাত্রা পথে বিমানে আরোহন ও অবতরন কালে কানের সমস্যায় পড়বেন প্রায় সব যাত্রী। যাদের পূর্ব থেকেই এলার্জি জনিত সমস্যা রয়েছে তারা একটু বেশি সমস্যা অনুভব করবেন।
শুরুতে বিমান উঠা নামার সময় সবার মোটামুটি কিছু সময় কান ব্লক হয়ে যাওয়া, তীব্র ব্যথা অনুভুত হওয়া, কান জ্বালাপোড়া করা এমনটা হতে পারে। এটি মুলত বায়ুচাপ এর তারতম্যের কারনে হয়ে থাকে।
কানের ভেতরের ও বাইরের চাপ এর ভারসাম্য রক্ষা করে একটি নালির মাধ্যমে যাকে নাকের সাথে কানের সংযোগ নালি বা ইউস্টেশিয়ান টিউব বলে। এলার্জি, নাকের হাড় বাকা, মাংস বাড়া, পলিপ ইত্যাদি থাকলে এই টিউব ব্লক হয়ে যায় ফলে বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হয়।
তাই এই টিউব সচল রাখা জরুরি বিমান উঠা ও নামার সময়। সে ক্ষেত্রে বিমানে আরোহন করার কিছুক্ষণ আগে নাকে এন্টাজল জাতীয় ড্রপ দিয়ে নিবেন। এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে নিবেন। বিমান উঠা ও নামার সময় মুখে দোয়া পড়া, তেলাওয়াত করা বা মুখে চকলেট, চুইংগাম চুষতে পারেন অথবা হা করে শ্বাস নিতে পারেন। বার বার মুখ খোলা ও বন্ধ করলে টিউব সচল থাকে ফলে বায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
সৌদি আরবে অবস্থান কালিন সময়ে গরমে ঠোঁট ও নাক শুকিয়ে যায়। চামড়া খসখসে হয়ে পড়ে, চামড়া ফেটে যায়, নাক ও ঠোটে অনেক সময় রক্ত চলে আসে। তাই সে সময়ে ঠোট ও নাকে ভ্যাসেলিন, জেলি, তেল ব্যবহার করতে পারেন। কিছু এন্টিবায়োটিক মলমও ব্যবহার করতে পারেন।
শুকনো ভাব কমাতে ঔষধ এর পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করাও জরুরি তবে খুব বেশি ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত হবে না। ঠান্ডা ও গরম মিশিয়ে পান করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানিয় খাবার, জুস, রসালো ফল ইত্যাদি খেতে পারেন।
যাদের পূর্ব থেকেই নাক কান গলার সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ঔষধ চালিয়ে যাবেন। কান পাকা রোগীরা কান ভেজানো থেকে দূরে থাকবেন। প্রায় সব বাংলাদেশী হাজীরা ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভুগেন। অনেকের গলা বসে যায়। তাই হিস্টাসিন, মোনাস এই জাতীয় ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমানে নিয়ে যাবেন।
ভ্রমনের প্রথম কয়েকদিন আবহওয়া পরিবর্তনের কারনে হঠাৎ করে সারাক্ষন এসিতে থাকা, অতিরিক্ত গরম, আবাসিক হোটেলের গরম পানি, নতুন পরিবেশ, খাবার সহ নানা কারনে ঠান্ডা জনিত সমস্যা হতে পারে। এগুলো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসবে। এ সময় এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন করতে পারেন। পভিডন আয়োডিন জাতীয় পানি ওষুধ দিয়ে গড়গড়া করতে পারেন।
গলা বসে জ্বর চলে এলে বা কন্ঠঃ স্বর পরিবর্তন হয়ে গেলে এন্টিবায়োটিক দরকার হতে পারে তাই চিকিৎসক এর পরামর্শে এক কোর্স এন্টিবায়োটিক, কিছু ব্যথা নাশক ওষুধ ও এসিডিটি বা গ্যাস্টিক এর ঔষধ অবশ্যই নিয়ে যাবেন।
এজমা বা শ্বাস কষ্ট রোগীরা নিয়মিত ঔষধ সাথে রাখবেন। ইনহেলার ব্যবহার করবেন। প্রয়োজন হলে নেবুলাইজ করার ব্যবস্থা রাখবেন।
পর্যাপ্ত মেডিকেল ক্যাম্প থাকলেও এতো মানুষের ভীড়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহন সম্ভব নাও হতে পারে তাই নিজের ব্যবস্থা নিজেই রাখা উচিত।।
দেশে ফেরার পরও অনেকের দীর্ঘ মেয়াদি কানের সমস্যা ও নাকের সমস্যা, গলা বসে যাওয়া এগুলো থাকতে পারে। বেশ কিছু দিন ঠোঁট শুকনো থাকা চামড়া উঠা, নাকের ভেতরে শুকনো ময়লা জমা, রক্ত চলে আসা এগুলোও থাকতে পারে। ভয়ের কিছু নেই। এগুলো ধীরে ধীরে ভালো হয়ে যায়।
বিমান ভ্রমনের পর কিছু মানুষের কান ফেটে পানি বের হয়ে যায়। কানের ব্যথা অনুভুত হয়। সে ক্ষেত্রে কিছু দিন কান না ভিজানোর ব্যাপারটা মনে রাখতে হবে। কিন্তু যদি ইনফেকশন হয়ে যায়, পুজ চলে আসে, কম শুনতে পান তবে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ নিবেন।।
সৌদি আরবে অবস্থান কালীন নাক কান গলা সম্পর্কীত যে কোন বিষয়ে ০১৬৭৪৭৪৮৯৯৪ এই নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগাযোগ করতে পরবেন।
মহান আল্লাহ আপনাদের হজ্ব কবুল করুন আমিন।

ডা. নাসির উদ্দিন
ডা. নাসির উদ্দিন একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ (ইএনটি কনসালট্যান্ট)। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ইএনটি-তে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। নাক, কান ও গলার জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তার রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, সঠিক রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে পারদর্শী হওয়ার ফলে তিনি রোগীদের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।